জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ঠিক আগে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। এর মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বের আরও একটি বড় শক্তি ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতির আন্দোলনে যোগ দিলো।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, “আজ আমি ঘোষণা করছি, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। শান্তির পথে এগোতে হলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে রক্ষা করতে হবে।”
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইসরায়েলের ওপর। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলমান অবস্থায়, যেখানে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের পদক্ষেপ হামাসকে আরও উৎসাহিত করবে এবং যুদ্ধ থামানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।”
আরও পড়ুন
ইউরোড্যাকে ডেটাবেসের কড়াকড়ি নজরদারি
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্দোলন চললেও সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একের পর এক স্বীকৃতি বিষয়টিকে নতুন গতি দিয়েছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর পর্তুগালও একই ঘোষণা দেয়। চলতি বছরের ২০ মার্চ মেক্সিকো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবার ফ্রান্সের ঘোষণা সেই তালিকাকে আরও শক্তিশালী করল।
চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে বসছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন, যেখানে ১৪০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন। এবারের বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুটি এজেন্ডার শীর্ষে থাকার কথা রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এতে যোগ দিতে পারবেন না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলো। তবে এই স্বীকৃতি কতটা কার্যকরভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।